এ ক্ষেত্রে ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দু’টি অথবা একটির পরে অন্যটির কার্যকারিতা দ্রুত বলে জানিয়েছে গবেষকেরা
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড ভ্যাকসিনের মিশ্র প্রয়োগ করোনাভাইরাসরোধে বেশি কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দু’টি অথবা একটির পরে অন্যটির কার্যকারিতা দ্রুত বলে জানিয়েছে গবেষকেরা।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই ধরনের দুই ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণে অনেক দ্রুত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার প্রফেসর জোনাথন ভ্যান-ট্যাম বলেছেন, দুই ধরনের দুইটি ডোজ ভ্যাকসিন দ্রুত কার্যকরী হলেও, একই ধরনের দু’টি টিকাও কার্যকরী। তাই আমরা একই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তেই আছি। তবে ভবিষ্যতে দুই ধরনের টিকা প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তবে কিছু দেশ এরই মধ্যে মিশ্র ডোজ ব্যবহার করা শুরু করেছে। কোভিড-১৯-এর টিকা গ্রহণের পর অনেকের মধ্যেই মারাত্মক রক্তের জমাট বাঁধার প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় স্পেন এবং জার্মানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার বা মডার্না’র ভ্যাকসিন সরবরাহ করছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ তদন্তকারী অধ্যাপক ম্যাথু স্নেপ বলেছেন, অনুসন্ধানগুলোয় দেখা যাচ্ছে, অনেকেই একই ডোজ দুইবার গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফলে ভিন্ন ভিন্ন দুই ধরনের টিকার উপর সবার আস্থা বাড়ছে।
এদিকে, সোমবার (২৮ জুন) প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ভ্যাকসিনের তৃতীয় একটি “বুস্টার” ডোজ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় ডোজের ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকরী।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসছে শীতের আগে এ বছর বুস্টার ডোজ দেওয়া লাগবে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়।
পূর্ব আঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক পল হান্টার বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম কোর্স সম্পন্নরা অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরিবর্তে বুস্টার হিসাবে ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজার-বায়োটেক ভ্যাকসিনের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ মিশ্রিত করার ফলে দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
প্রকৃতপক্ষে, এইসকল ডোজের প্রতিটি সংমিশ্রণ- ফাইজার-ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা-ফাইজার, ফাইজার-অ্যাস্ট্রাজেনেকা কিংবা অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজের তুলনায় দ্রুত অ্যান্টিবডি এবং সেলুলার প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
তাহলে কী অ্যাস্ট্রাজেনেকার দু’টি ডোজ কার্যকরী নয়?
ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার দু’টি ডোজ গ্রহণে কোভিড আক্রান্ত হলেও শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মারাত্মক অবস্থায় পড়তে হয় নি। এতেই বোঝা যায় কোভিডের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর।
মতামত দিন