• সোমবার, জুন ২৭, ২০২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৮ দুপুর

সিরাজগঞ্জের সরকারি হাসপাতালে ৫০০ টাকার ‘টিউব’ কেনা হয় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়!

  • প্রকাশিত ০৫:২৪ সন্ধ্যা জুলাই ১৪, ২০২১
সিরাজগঞ্জ
সংগৃহীত

২০১৯ সালেও যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনাকাটায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

রক্ত পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত টিউবের খুচরামূল্য কত হতে পারে? ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা। তবে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ৫০টি টিউব কিনেছে ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। যদিও কিনতে লাগার কথা ১ লাখ টাকা। সে হিসেবে দেখায় যায় প্রতিটি টিউবের পেছনে প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় করেছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মেডিকেল সরঞ্জাম কেনাকাটায় এমন চিত্র উঠে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তিতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তির প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু টিউব নয়, হাসপাতালের জন্য স্টেইনলেস স্টিলের (এসএস) দুটি ডিসেক্টিং টেবিল কেনা হয়েছে। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার ডিসেক্টিং টেবিল ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছে। আলাদা তেমন বিশেষত্ব না থাকলেও টেবিল দুটির জন্য হাসপাতাল ৬৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছে। অথচ বাজারে এ ধরনের টেবিল ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। এছাড়া ১০ থেকে ২০ হাজার দামের অটোপসি টেবিল ২৪ লাখ ২৩ হাজার টাকায় কিনেছে। বাজারে যাচাই করে দেখা যায় সরকারি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ব্যবহৃত এ ধরনের অটোপসি টেবিলের দাম  ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যেই ভালো মানের অটোপসি টেবিল পাওয়া যায়। হাসপাতালটি একটি রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন কেনার জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার এবং একই মডেলের একই দেশের আরেকটি রিয়েল টাইম পিসিআর কেনার জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে। কিন্তু সরকারের অডিট বলছে, দুটি রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনের জন্য ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে, যা ফেরতযোগ্য।

এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, “আমরা তো এটির (অডিট আপত্তি) উত্তর দিয়েছি। অডিট আপত্তির বিষয়ে তারা তাদের জবাব দিয়েছেন। বাড়তি অর্থ ব্যয়ের যে বিষয় বলা হয়েছে, তা চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগের) অতিরিক্ত সচিব শাহাদাত হোসেন বলেন, “২০২০ সালে এ অডিট করা হয়। এগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আমাদের আপত্তির বিষয়ে জবাব চাইব।”

দুর্নীতি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ওটা তো ডিপিপির যে দাম, তাই ধরা হয়েছে। ওগুলারে ইয়ে করা হইছে।”

অডিট পরিচালনা করা সিভিল অডিট অধিদপ্তরের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার আব্দুল কুদ্দুস প্রধান বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে অডিট করি। আমাদের আপত্তিগুলো সঠিক না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের যুক্তি তুলে ধরতে পারে। তাদের যুক্তি না টিকলে এবং আমাদের আপত্তিই যদি সঠিক হয়, তাহলে তাদের টাকা জমা দিতে হবে।”

শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালের সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এসএমএস পাঠানো হলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “হাসপাতালের সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে ভালো হবে। আর মন্ত্রী আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আমি আপনাকে জানাব।” যদিও এরপর আর যোগাযোগ করা হয়নি।

দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতির এ ধরনের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দুই ধরনের পদক্ষেপ হতে পারে। একটি বিভাগীয় পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেই অবাস্তব মূল্যের সরঞ্জাম কেনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারে।”

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলে ২০১৪ সালে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর নামে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৯ সালে এটির যন্ত্রপাতি ও আসবাব কেনাকাটায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরপর তদন্তে নেমে দুর্নীতির সত্যতা পেয়ে হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পালসহ দুজনের বিরুদ্ধে গত বছর ৯ আগস্ট মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ৩০ কোটি ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। ডলার ও ইউরো করে এসব অর্থ হংকং পাঠানোর দায়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুদকের এ মামলায় এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। ওই দুর্নীতির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অস্বাভাবিক দামে সরঞ্জাম কেনার অভিযাগ উঠে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিট আপত্তিতে।

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail